ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মারভদাশত পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স শত্রুর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই হামলার সময় কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যক্রমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। মারভদাশত কাউন্টি গভর্নরের অফিসের বরাত দিয়ে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, এই হামলা কমপ্লেক্সের উৎপাদন বা অবকাঠামোর উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।
এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টেও ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় উত্তপ্ত করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনার প্রতি এই ধরনের হামলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
ইরানের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং আরও হামলার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করেছে। স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই ধরনের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে, তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প হলো দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর উপর হামলা সরাসরি উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশ্বশক্তিগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এ ধরনের সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি না পায়।
আকাশজমিন / আরআর