ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ট্রাম্পের আল্টিমেটামের শেষ প্রহর, ইরান কী সিদ্ধান্ত নেবে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:০১ পিএম

ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের মুখেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উদ্বেগ।

গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে একাধিক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে এক রাতেই ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হতে পারে। তাঁর ভাষায়, সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার।

বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা অ্যান্থনি জার্কার তাঁর বিশ্লেষণে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একটি জটিল রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে তাঁর দেওয়া কঠোর আল্টিমেটাম, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে ট্রাম্প সময়সীমা বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন। তবে এতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারণ, এত কড়া ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর পিছু হটলে তা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত হানতে পারে, বিশেষ করে যখন ইতোমধ্যেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামনে রয়েছে তাঁর হুমকি বাস্তবায়নের বিকল্প। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি এমন পথে যেতে চান না। যুদ্ধ বা সরাসরি সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে মারাত্মক।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাধারণ মানুষ চলমান মার্কিন অভিযান সহ্য করতে প্রস্তুত। এমনকি তিনি বলেন, কেউ কেউ নিজেদের শহরে হামলাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

তিনি আরও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাহলে পরবর্তীতে সেই অবকাঠামো পুনর্গঠনের দায়িত্বও নিতে হতে পারে। এতে করে শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

এর আগে গত রোববার ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’। তাঁর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

সময় নির্ধারণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) পর্যন্ত ইরানকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত অন্য দিকে মোড় নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরান যদি আলোচনার পথে না আসে, তাহলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশিত। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সেই সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কোনো সমঝোতা হয় কি না, নাকি বিশ্ব নতুন একটি বড় সংঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর