আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে আবার দেখা গেছে ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয়ঙ্করী বিমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নেব্রাস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে এই বিশেষ বিমানকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।
বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধের সময় জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সুরক্ষা এবং সরকারের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য তৈরি। ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের সদর দপ্তরের অবস্থান ফ্লাইট ট্র্যাকারের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে (ইএসটি) অফুট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং ঘাঁটিতে ফিরে অবতরণের আগে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। উচ্চ উত্তেজনার মুহূর্তে ফ্লাইট ট্র্যাকারের মাধ্যমে বিমানটির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলার ১২ দিনের যুদ্ধ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে এর একটি ফ্লাইট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ট্রাম্প এখন ইরানকে তার শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করতে পারে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “পুরো দেশটাকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যেতে পারে এবং সেই রাত হতে পারে আগামীকাল।” যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ই-৪বি বিমানের একটি বহর রয়েছে, যা সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্য সারা বছর নিয়মিত উড্ডয়ন করে।
জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ‘নাইটওয়াচ’ বিমানটি প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধানদের জন্য আকাশস্থ কমান্ড সেন্টারের কাজ করে।
বিমানের তিনটি ডেকে ১৮টি বাঙ্ক, ব্রিফিং রুম, টিমওয়ার্ক এলাকা, কনফারেন্স রুম, কমান্ড রুম এবং নির্দিষ্ট বিশ্রাম এলাকা রয়েছে। এটি জাতীয় জরুরি অবস্থায় একটি ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’ হিসেবে কাজ করে।
নাইটওয়াচ বিমান পারমাণবিক বিস্ফোরণ, সাইবার আক্রমণ, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস এবং অন্যান্য হুমকি প্রতিরোধ করতে উন্নত প্রযুক্তিতে সজ্জিত। প্রতিটি ই-৪বি সর্বোচ্চ ১১২ ক্রু বহন করতে পারে এবং এর পাল্লা ৭ হাজার মাইলেরও বেশি। বিমানে তাপীয় ও পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং রে ডোমে থাকা ৬৭টি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানকে চাপ দেওয়া এবং পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও জটিল করার সম্ভাবনা রাখে।