অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “তোমরা ইতিহাস গড়েছো এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে গর্বিত করেছো। সাম্প্রতিক সময়ে গর্ব করার অনেক কিছু থাকলেও, এই অর্জন একেবারেই আলাদা।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, ট্রাম্প নভোচারীদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে আসা এবং পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়া—এটি সত্যিই অসাধারণ। তোমাদের সাহস ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।”
ফোনালাপের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নভোচারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, মহাকাশে হঠাৎ পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তারা কেমন অনুভূতিতে ছিলেন। জবাবে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন, সেই মুহূর্তে তিনি প্রার্থনা করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি সামলে তারা দ্রুত বৈজ্ঞানিক কাজের ওপর মনোযোগ দিতেন। গ্লোভারের মতে, মহাকাশে তারা ব্যস্ত সময় পার করছিলেন, কঠোর পরিশ্রম করছিলেন এবং পুরো অভিজ্ঞতাটি তার কাছে আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয় ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, মিশন শেষে ‘আর্টেমিস–২’ নভোচারীদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি বলেন, “ব্যস্ততা থাকলেও আমি সময় বের করে নভোচারীদের সঙ্গে দেখা করব। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও অভিনন্দন জানাতে চাই।”
নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার ফোনালাপের শেষে প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে এই সংলাপ মূলত নভোচারীদের সাহসিকতা, নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক মিশনের সফলতা উদযাপন করার জন্য অনুষ্ঠিত হয়।
মিশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্টেমিস–২ মিশনটি শুধুমাত্র চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে আসার জন্য নয়, ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ট্রাম্পের ফোনালাপ নভোচারীদের প্রতি প্রশাসনের উচ্চ শ্রদ্ধা ও দেশবাসীর প্রতি গর্বের প্রতিফলন।
নভোচারীদের এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়েও স্বীকৃতি মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্টেমিস–২ মিশনের তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মানবজাতির চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহ অভিযানকে আরও নিরাপদ ও সফল করবে।