আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিদোন আজ বুধবার ভোররাতে আকাশপথে পরিচালিত পৃথক হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার তারা ইসরায়েল ও লেবাননের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর স্থাপনায় মোট ৫২টি হামলা চালিয়েছে। বুধবার একই অঞ্চলে দুটি হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে সিদোন শহরের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংস হয়েছে এবং নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের তায়ির শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে শহরটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গত মাসখানেক ধরে ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা। এই পরিস্থিতি অঞ্চলটির সাধারণ জনগণের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে এনেছে। স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এই সময় ইরানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত হবে না। এর ফলে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লেবাননের এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় এই হামলা মানবিক ও রাজনৈতিক সমস্যা উভয়কেই উসকে দিয়েছে। সিদোন ও তায়ির শহরের অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেটি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর ও জরুরি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি ও সংঘর্ষের অবসানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আকাশজমিন / আরআর