ইরানের ওপর চালানো সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই মন্তব্য করেন।
বুধবার স্পুতনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ছিল একপাক্ষিক এবং বিনা উসকানিতে পরিচালিত আগ্রাসন। শুরু থেকেই রাশিয়া এই হামলার বিরোধিতা করেছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জাখারোভা বলেন, “আমরা প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিলাম, এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।” তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করে।
রাশিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্নমত রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়া আবারও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই মস্কো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তারা মনে করে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় এবং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাখারোভা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই বক্তব্য একদিকে যেমন কূটনৈতিক বার্তা বহন করে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টাও হতে পারে। একই সঙ্গে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির সমালোচনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর