যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন বাহিনী সরাসরি মোতায়েন করা হবে না। আজ বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী কি ভূমিকা রাখবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ‘মার্কিন সেনারা আশপাশেই থাকবে’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী। জবাবে হেগসেথ বলেন, “আমরা কোথাও যাচ্ছি না। আমরা আগের অবস্থানেই থাকব, প্রস্তুত ও সতর্ক থাকব, যেন প্রয়োজন হলে মুহূর্তের নোটিশে পুনরায় সবকিছু শুরু করা যায়।”
হেগসেথ বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, জাহাজগুলো এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করবে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও তুলে ধরেন এবং বলেন, “নতুন সরকারের সামনে কোনো বিকল্প বা সময় অবশিষ্ট ছিল না, তাই তারা চুক্তিতে এসেছে। এই চুক্তি অর্থাৎ তারা আর কখনও পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি সংঘাতে ৪০ দিনেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১০ শতাংশ যুদ্ধশক্তি ব্যবহার করেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনীকে বিশৃঙ্খল করে দিয়েছে। হেগসেথ দাবি করেন, ইরান নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম প্রমাণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান প্রতিটি লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করেছে।
হেগসেথ বলেন, মার্কিন সেনারা আগের অবস্থানে থাকবেন, পর্যবেক্ষণ চালাবেন এবং প্রয়োজন হলে জাহাজ চলাচল ও অন্যান্য সেক্টরে পুনরায় সবকিছু শুরু করতে পারবেন। এর ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মার্কিন বাহিনী সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন হবে না।
ব্রিফিংয়ে হেগসেথের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে মার্কিন সেনারা সজাগ থাকবেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষার জন্য এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা