ইরানের লাভান তেল শোধনাগারে বুধবার (৮ এপ্রিল) হামলার ঘটনা ঘটেছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল রিফাইনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে করা হয়েছে।
হামলা স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবকাঠামো রক্ষার কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘সময়মতো কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।’ এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাগরিকরা অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার, গণপরিবহন ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয় করে শিল্পকে সহায়তা করুন। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার এক ঘণ্টার মধ্যে ইরান পাল্টা অভিযান শুরু করে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে এসেছে।
এই হামলার আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য ইরান একটি কার্যকর ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে আসে। তবে এই হামলা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটেছে, যা লঙ্ঘনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার প্রভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তেল সরবরাহে কোনো বড় সমস্যা হয়নি। তেহরান ন্যাশনাল অয়েল রিফাইনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিল্প স্থাপনাগুলো রক্ষায় কাজ করছে। এছাড়া ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের মধ্যে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের সাধারণ জনগণ সতর্ক এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।
আকাশজমিন / আরআর