ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

হরমুজ এড়িয়ে যাওয়া রুটে আঘাত, বাড়ছে জ্বালানি সংকট


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:১৫ পিএম

সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। এই পাইপলাইনটি বর্তমানে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, হামলায় পাইপলাইনের পাশাপাশি সৌদি আরবের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছিল।

এই পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এটির ওপর হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সৌদি আরামকো অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে। এর বাইরে রপ্তানির জন্য প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল অবশিষ্ট থাকে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ ইয়ানবু বন্দরে হামলার পরও ২৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল লোড করা হয়েছে, যা বন্দরটির সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি।

বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইয়ানবুতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি পাইপলাইনের ক্ষতি গুরুতর হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ, মূল্য এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর