ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইসলামাবাদে বসতে পারে বড় কূটনৈতিক বৈঠক, অনিশ্চয়তায় নেতৃত্ব


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:৪৭ পিএম

পাকিস্তানে আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সম্ভাব্য এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বৈঠকে কারা অংশ নেবেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; বরং বিভিন্ন সূত্রে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সম্ভাব্য এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন। ওই সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এই বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন অবস্থায় সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে জে ডি ভ্যান্স এই বৈঠকে অংশ নাও নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য প্রতিনিধি দল ও নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বৈঠকের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এ কারণেই শেষ মুহূর্তে প্রতিনিধিদলের তালিকায় পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়।

পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দেশটি যদি এই বৈঠকের আয়োজক হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত ইস্যুতে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এই বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো থেকেও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে বৈঠকটি আদৌ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, কিংবা কারা এতে অংশ নেবেন—তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, সম্ভাব্য এই বৈঠকটি বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছুই নির্ভর করছে কূটনৈতিক সমঝোতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর।


এ সম্পর্কিত আরো খবর