আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার রাতে প্রকাশিত নোটিশে এই ছুটি কার্যকর করার কথা বলা হলেও সরাসরি ছুটির কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে সাধারণত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কর্মসূচির আগে ইসলামাবাদে এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। আলোচনায় দুটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিক অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় প্রশাসন দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী, বৃহস্পতি ও শুক্রবারের এই ছুটি শুধু ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে কার্যকর থাকবে। জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা—যেমন পুলিশ, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা—ছুটির সময়ও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালু রাখবে।
ইসলামাবাদের উপকমিশনারের দপ্তর এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকরা নিজেদের কার্যক্রম ছুটির দিনগুলো অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন। জরুরি সেবা চালু থাকবে এবং শহরে সাধারণ জীবিকা নির্বাহে বিশেষ প্রভাব পড়বে না।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ধরনের ছুটি বহুবার হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা আলোচনার আগে শহরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়। এতে স্থানীয় জনসাধারণকে নিরাপদে রাখা হয় এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানো।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলোচনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি