আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কথিত ‘১০ দফা’ চুক্তির খসড়ার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস্তব কোনো আলোচনার প্রতিফলন ঘটেনি, বরং এটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার চেষ্টা।
বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, তা কেবল মিডিয়ার কল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের কোন অফিসিয়াল আলোচনার তথ্য এতে নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি বাস্তব ও কার্যকর চুক্তি হয়নি, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা ইরানের আশপাশে থাকবে। প্রয়োজনে অভূতপূর্ব মাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে ‘১০ দফা’ প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে, তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখার বিষয়। তবে এসবের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প বলেন, “এই ধরনের খবর কেবল কল্পনা ও গুজব, যা কূটনৈতিক পরিবেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তপ্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাস্তব, নিরাপদ ও কার্যকর চুক্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলেছে যে, চাপ বা মিডিয়ার গল্পের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা, বিমানবাহিনী ও স্থলসেনা সব সময় প্রস্তুত থাকবে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির অবস্থা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা হলো, কোনো চুক্তি বা প্রস্তাব অনুমোদনের আগে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতার উপর নির্ভর করবে।
সূত্র: শাফাক নিউজ