অনলাইন রিপোর্টার
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। তবে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দেড় ঘণ্টায় শহরের বেশিরভাগ কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে ভোটারকে দেখা যায়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া জিলা স্কুল, প্রি-ক্যাডেট হাই স্কুল, বগুড়া সেন্ট্রাল হাই স্কুল, সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেউজগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসনাজাহান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কেন্দ্রের সামনে দলীয় কর্মীদের ভিড় থাকলেও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি সীমিত। অধিকাংশ কেন্দ্রে ১০ থেকে ৩০ জনের ছোট লাইনে ভোটারদের দেখা গেছে। তবে গ্রামাঞ্চলের কিছু কেন্দ্রের নারী ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম এক ঘণ্টায় অনেক কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক ভোট পড়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৭.২৩ শতাংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের আগ্রহ কিছুটা কম বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজিবি সদস্যরা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলো হলো সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন, ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থীসহ মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। তবে সকাল থেকে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণের কারণে দিনশেষে কতটা ভোট পড়বে, সেটিই এখন নজর কাড়ছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর ও বিকেলের সময় ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে তৎপর রয়েছে। ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং ভোটের স্বচ্ছতা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।