ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা মসজিদ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:২৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ৪০ দিন পর মুসল্লিদের জন্য খুলে দিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে মসজিদটির দরজা খুলে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুরনো শহরে (ওল্ড সিটি) অবস্থিত এই মসজিদ ভোরের ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে খুলে দেওয়া হয়। মুসল্লিরা সেখানে ছুটে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং মসজিদের আঙিনায় সেজদায় লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। ৪০ দিন পর প্রথমবারের মতো এখানে জামাতে নামাজ আদায় করা হয়।

ইসরাইল এই মসজিদ বন্ধ রাখে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল সম্পূর্ণভাবে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। শুধু মসজিদের কর্মী এবং জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ-এর কর্মকর্তাদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এর বাইরে ফিলিস্তিনিদের শহরের ছোট ছোট মসজিদে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়।

এর আগে ৬ এপ্রিল, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন-গভির মসজিদ বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করেন। এবছর ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসা মসজিদে পড়তে দেওয়া হয়নি। এটি ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর প্রথমবারের মতো ঘটে। একই সময় ইসরাইল খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারও বন্ধ করে দেয়।

মসজিদ খোলার পর মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। স্থানীয়রা বলেন, এটি তাদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। তারা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এ সময় বিভিন্ন বয়সের মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, মসজিদ খোলার খবরটি প্রচার হওয়ার সাথে সাথেই মুসল্লিরা এসে নামাজ আদায় শুরু করেন। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং ওয়াকফ কর্মকর্তারা মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিরা আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় সামাজিক দূরত্ব এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা মেনে চলেন।

মসজিদ খোলার ঘটনায় ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বহু মুসল্লি মনে করছেন, এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর একটি শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং আল্লাহর কাছে শান্তি কামনা করেন। মুসল্লিদের আবেগপ্রবণ উপস্থিতি এবং ধর্মীয় উদযাপনের চিত্রটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর