ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ইউরোপ যাত্রা: হবিগঞ্জের দুই যুবকের জীবনহানি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:৩৪ পিএম

স্বপ্ন ছিল লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়া, পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা। কিন্তু হবিগঞ্জের লুৎফুর রহমান ও জুনাইদ মিয়ার জন্য সেই স্বপ্ন হয়ে গেল মৃত্যুর পথে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারা হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের দালাল আবদুস সালামের মাধ্যমে ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যান।

লুৎফুর রহমান (৪০) হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং জুনাইদ মিয়া (৪০) লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা। তারা ভায়রা ভাই। লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ রাত ১০টায় ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি নৌকা রওনা দেয়। যাত্রীদের মধ্যে ৩৮ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। নৌকার দুজন চালক ছিলেন সুদানি নাগরিক।

প্রথম দুই-তিন ঘণ্টায় সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার পরই চালক রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। ছয় দিন ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে খাবার ও পানির অভাব দেখা দেয়। প্রচণ্ড ক্ষুধা ও পানির অভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পানির সঙ্গে বিষাক্ত সমুদ্রের পানি পান করায় বমি শুরু হয় এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এর ফলে ১৭ জন মারা যান।

২৪ মার্চ লুৎফুর ও জুনাইদ মিয়া মারা যান। তাদের লাশ এক দিন নৌকায় রাখা হয়। আকমল মিয়া জানিয়েছেন, ‘আমরা লাশ সমুদ্রে ভাসাতে চাইনি। সীমান্তে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ও চালকরা বিপদে পড়ার ভয়ে লাশগুলো সমুদ্রে ফেলে দেন।’

লুৎফুরের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ২১ মার্চ তার ভাই ফোন করে জানিয়েছিলেন, তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। পরে কোনো খোঁজ মেলেনি। দুই দিন পর দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তারা গ্রিসে পৌঁছেছেন—কিন্তু তা সত্যি ছিল না।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। এমন ঘটনা শুনেছি, তবে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করতে যাচ্ছি। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, ভূমধ্যসাগরে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা কতটা বিপজ্জনক। অভাব, দুর্বল নৌকা ও অনভিজ্ঞ চালকের কারণে জীবনহানি হচ্ছে। এই ধরনের মৃত্যু কেবল পরিবারকে নয়, পুরো সম্প্রদায়কে শোকাহত করছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর