মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এক সময় গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে স্যোশালে পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “যখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। গ্রিনল্যান্ডের কথাটি মনে রাখুন। বড়, খারাপভাবে পরিচালিত একটি বরফের খণ্ড।” তিনি অভিযোগ করেন, ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে।
এই প্রসঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ন্যাটো মিত্রদের ওপর “স্পষ্টভাবে হতাশ।” হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প নিজেই ন্যাটোকে সমালোচনা করে বলেন, যখন তাদের প্রয়োজন ছিল, তারা পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ন্যাটো ত্যাগ করার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তবে রুটো বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টের হতাশার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারি। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। তারা ঘাঁটি ব্যবহার, লজিস্টিক সহায়তা ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।”
রুটো আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপের দেশগুলোর অনেকেই তাদের অঙ্গীকার পূরণ করেছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও সবাই সহায়ক হয়নি, পুরো চিত্রটি আরও সূক্ষ্ম এবং প্রায়শই ভুল বোঝা হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুটো বলেন, “না। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, ন্যাটোর দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইরান যেন কখনও এই সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।
রুটো বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টের অবস্থান সমর্থন করেন এবং ইউরোপের বড় অংশও ইরানের অস্থিতিশীলতা কমানোর পদক্ষেপকে সমর্থন করে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়। তিনি “উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতির মতো” একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, দেরি করলে ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
এই অবস্থায় ট্রাম্পের ন্যাটো সমালোচনা এবং গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।a