আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী—এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যদি সেই পথে এগোতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি ইরান স্থায়ী শান্তির পথ বেছে নেবে। কিন্তু যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।”
সম্প্রতি ইরানকে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় রাজি করাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দেন।
মার্কিন স্থানীয় সময় অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত ইরানকে এই সময় দেওয়া হয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ থেকেই দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে দেশটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পরবর্তী ধাপে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে সামরিক সংঘাত এড়ানো সহজ হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছে।
পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না। তবে দেশের নিরাপত্তা ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হওয়াই সবচেয়ে কাম্য। কারণ সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলই আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স