যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘পুরোপুরি অবিশ্বাস’ নিয়েই আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হলেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তেহরান।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ। আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান বাস্তববাদী হলেও তা গভীর সন্দেহের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ইরান সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করব এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান আলোচনায় বসলেও তাদের অবস্থান হবে কঠোর এবং শর্তসাপেক্ষ। ফলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আলোচনার শুরুতেই ইরানের এমন কঠোর অবস্থান ফলাফল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর না হলে আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের প্রতি সন্দেহ ও চাপের নীতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান বারবার দাবি করে আসছে যে তারা কোনোভাবেই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আরাগচি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান তাদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুরুতেই পারস্পরিক অবিশ্বাসের বিষয়টি সামনে চলে আসায় আলোচনার সফলতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর