পাকিস্তানে চলমান আলোচনায় ব্যর্থতা এলে ইরানের ওপর আরও শক্তিশালী হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘সেরা গোলাবারুদ’ দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা হবে।
আল-অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ বোঝাই করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা নতুন করে শুরু করছি। আমরা জাহাজগুলোতে এ যাবৎকালের সেরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ বোঝাই করছি। আমরা আগে যা দিয়ে তাদের (ইরান) ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলাম, তার চেয়েও উন্নত।”
মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়, আমরা সেগুলো ব্যবহার করব এবং খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করব।”
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে যোগ দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অপরদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
এদিকে ট্রাম্প ইরানি আলোচক দলের সততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন লোকদের সঙ্গে আলোচনা করছে, “যারা সত্যি কথা বলে কি না, তা আমরা জানি না।” তার অভিযোগ, ইরান একদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের সামনে বলছে, সব পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে ফেলছে। কিন্তু পরে তারা বলে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়। তাই আমরা দেখব আসলে কী হয়।” তার এই মন্তব্য আলোচনার পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও কড়া ভাষায় ইরানের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা নেওয়ার বাইরে ইরানের হাতে তেমন কোনো কৌশল নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আলোচনা করার জন্যই তারা আজ বেঁচে আছে!”
এছাড়া ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম ও জনসংযোগে দক্ষতা’ থাকার অভিযোগও তোলেন। তার মতে, ইরান যুদ্ধের চেয়ে তথ্যযুদ্ধে বেশি সক্রিয়।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনা শুরুর আগেই ট্রাম্পের এমন কঠোর হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও হুমকির এই পরিবেশে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।