আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA-এর আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথা–তে অবস্থান করছেন। অবতরণের পর তাঁরা জাহাজের ডেকে হাঁটাহাঁটি করেছেন এবং হাসিমুখে ছবি তুলেছেন। প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষার পর নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবাই সুস্থ আছেন এবং মানসিকভাবেও ভালো অবস্থায় রয়েছেন।
আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে নভোচারীদের বহনকারী Orion spacecraft ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। অবতরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল তাদের নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে বের করে একটি সহায়তাকারী নৌযানে নিয়ে যায়। এরপর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথা–তে স্থানান্তর করা হয়।
জাহাজে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা প্রথমে ফ্লাইট ডেকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। পরে তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ছবি তোলেন। বিশেষ করে ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভারকে হেলিকপ্টারের ভেতরে বসেই ছবি তুলতে দেখা যায়, যা নাসা প্রকাশ করেছে।
পরে নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জাহাজে থাকা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের হার্ট রেট, রক্তচাপ, স্নায়ুর কার্যকারিতা এবং শারীরিক ভারসাম্য পরীক্ষা করেন। দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার পর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে ফেরার কারণে শরীরে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
নাসার ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং জানিয়েছেন, নভোচারীরা সবাই “খুশি এবং সুস্থ” আছেন। তিনি বলেন, ভিক্টর গ্লোভারকে হাসিমুখে দেখা গেছে এবং পুরো দলই স্বাভাবিকভাবে সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সবাই ভালো অবস্থায় আছে এবং হিউস্টনে ফেরার জন্য প্রস্তুত।”
নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা আরও জানান, আর্টেমিস–৩ মিশনের নভোচারীদের নাম খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তারা জানান, বর্তমানে ফেরত আসা নভোচারীদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার হলো পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসা শরীরের জন্য একটি জটিল প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে থাকার কারণে পেশি ও হাড়ে পরিবর্তন ঘটে, তাই প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরে যাবেন। সেখানে আরও বিস্তারিত শারীরিক ও মানসিক মূল্যায়ন করা হবে এবং মিশনের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ শুরু হবে।
এই সফল অবতরণের মাধ্যমে আর্টেমিস কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করছে নাসা। কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব অবতরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ মহাকাশযাত্রা শেষে পৃথিবীতে ফেরা এই চার নভোচারীর বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।