ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

জামায়াত এমপিদের পরিবার থেকে কেউ পাচ্ছেন না সংরক্ষিত আসন


  • আপলোড সময় : শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৫৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তালিকা অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। দলটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপি নির্বাচিত হওয়া দলের নেতাদের স্ত্রী, কন্যা বা পরিবারের কেউ সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আগামী ১২ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত জোটে মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্য শরিকদের জন্য কত আসন বরাদ্দ থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

জামায়াত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় প্রস্তুতি শুরু হয়। মার্চ মাসজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই–বাছাই করা হয়। এ সময় দলের মহিলা বিভাগের কাছ থেকে একটি প্রাথমিক তালিকা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলে।

সূত্র আরও জানায়, মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকেই মূলত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে এবার দলের যেসব কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কেউই মনোনয়ন পাবেন না। অর্থাৎ, এক পরিবার থেকে দুইজন সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকছে না। সম্ভাব্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তাই এখনই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদ সদস্যদের পরিবারের কেউ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন না—এটি জামায়াতের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান। সেই নীতি অনুযায়ীই এবারও সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, একই পরিবার থেকে প্রার্থী না রাখা হলেও দলের যেসব কেন্দ্রীয় নেতা এবার সংসদ সদস্য হতে পারেননি, তাঁদের স্ত্রী বা কন্যাদের সংরক্ষিত আসনে বিবেচনা করা হতে পারে।

সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নীও দলের বিবেচনায় আছেন বলে জানা গেছে।

জামায়াত সূত্রগুলো বলছে, সংরক্ষিত আসনের জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। মহিলা বিভাগ একটি প্রস্তাবিত তালিকা জমা দিয়েছে। সেখানে শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা জানান, বিভাগ থেকে ১২ জনের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন।

জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জানা গেছে, জামায়াত জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। এর মধ্যে জামায়াত ১২টি এবং এনসিপি ১টি আসন পেতে পারে। তবে এনসিপি আরও একটি আসন দাবি করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এনসিপি সূত্র বলছে, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকে সংসদে দেখতে চায় দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জোটের আসন বণ্টন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর