ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শাহবাজ শরিফের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আলাদা বৈঠক


  • আপলোড সময় : শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:০৯ পিএম

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ–এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা সামনে রেখে জেডি ভ্যান্স বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের হয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মূল বৈঠকে বসার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বৈঠকে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর জামাতা জ্যারেড কুশনার। তাদের উপস্থিতি বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির পক্ষ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং চলমান শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

এদিকে দিনের শুরুতে ইরানের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ গড়ে উঠছে।

তবে মার্কিন ও ইরানি উভয় পক্ষের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের আলোচনার বিস্তারিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ ধরনের বৈঠকে সাধারণত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যা প্রকাশ্যে আনা হয় না।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান এই আলোচনায় একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বৈরী দুই পক্ষ সংলাপে বসার সুযোগ পাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোকে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


অন্যদিকে 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ–এর সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ–এর নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি–ও উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। শনিবার তারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানের সঙ্গে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এতে মূলত পাকিস্তানের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো দুই বৈরী পক্ষের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করতে ইসলামাবাদ একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই ধরনের বৈঠক সাধারণত আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে একটি প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে কাজ করে। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করে।

এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও এই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সহযোগিতা—এসব বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত।

যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা যৌথ বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে অগ্রসর হয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর