রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলেও ক্ষমতায় এসে বিএনপি এখন গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ করছে।
শনিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “কথায় বলে, যে যায় লঙ্কায়, সে-ই হয় রাবণ। তারা আজকে রাবণ হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।” তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক কমে গেছে। তার অভিযোগ, “৭০ শতাংশ মানুষের ভোটকে তারা অস্বীকার করেছে।” এছাড়া তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলো আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি বিএনপি রক্ষা করেনি।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ—এসব বিষয়ে জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ হয়নি। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে, তাদের পরিণতি কখনো ভালো হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার ফল ভোগ করতে হবে। বর্তমান সরকারকে সেই বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু সংসদের ভেতরে নয়, প্রয়োজনে রাজপথেও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। “রাজপথের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য করব,”—বলেন তিনি।
এছাড়া বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গণভোট নিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার মতে, “তারা জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” ফলে বর্তমান সরকারকে আর জনগণের প্রতিনিধি বলা যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চলমান উত্তেজনার সময় জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতা নষ্ট করেছে। তিনি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
সামগ্রিকভাবে, তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়াতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর