কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর। তিনি ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীম রেজা ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামীম রেজার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিডিওটি অনেক আগের। সম্প্রতি ভিডিওটি আবার ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে একদল বিক্ষুব্ধ লোক আস্তানায় হামলা চালায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সংখ্যার তুলনায় পুলিশ সদস্য কম থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “পুলিশ তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি মারা যান।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও ভিডিওটি কীভাবে পুনরায় ছড়ানো হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা অতীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন। ২০২১ সালের মে মাসে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয় এবং তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। পরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
আজ সকালে তার কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার আস্তানায় হামলা চালায়। সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে জানা যায়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
আকাশজমিন / আরআর