সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 46
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় জ্বালানি সংগ্রহের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে এক ব্যবসায়ীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফুয়েল কার্ড সঙ্গে বহনের ঝামেলা এড়াতে তিনি সেটি গেঞ্জিতে প্রিন্ট করে ব্যবহার শুরু করেছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার জামতৈল বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় নূর মোহাম্মদ নামের ওই ব্যবসায়ীকে গেঞ্জিটি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং জামতৈল বাজারে ‘সোনালী টেলিকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল কাজীপুর মোড় এলাকায় একটি তেল পাম্পে তেল নিতে গেলে তাকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে ৬ এপ্রিল তিনি কার্ডটি সংগ্রহ করেন। তবে কার্ডটি আকারে বড় হওয়ায় সেটি সবসময় বহন করা তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।
এই সমস্যার সমাধানে তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেন। নিজের ব্যবহারের জন্য একটি গেঞ্জির সামনের অংশে ফুয়েল কার্ডের মূল তথ্য—নাম, পরিচয় ও ছবি—প্রিন্ট করান। একইসঙ্গে গেঞ্জির পেছনের অংশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও সংযুক্ত করা হয়। ফলে তিনি এখন গেঞ্জিটি পরিধান করেই জ্বালানি নিতে পাম্পে যাচ্ছেন।
নূর মোহাম্মদ জানান, পাম্পে গিয়ে প্রথমে তেল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। পরে ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ার পর কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কার্ডটি বড় হওয়ায় সেটি সবসময় সঙ্গে রাখা তার জন্য অসুবিধাজনক হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই তিনি গেঞ্জিতে কার্ডের তথ্য প্রিন্ট করান।
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবেই গেঞ্জি ব্যবহার করবেন। তার মতে, এতে করে সময় বাঁচছে এবং জ্বালানি সংগ্রহেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, তেল সংকট এবং ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে সবার। অনেকেই বিষয়টিকে সৃজনশীল সমাধান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেউ এটিকে ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে নীতি ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধানকে সামনে নিয়ে আসে। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করছেন।