সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাচিকাটা এলাকায় মধু আহরণে গিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনায় এখনো তিন মৌয়াল নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় চার মৌয়ালকে উদ্ধার করার পর আরও একজন মৌয়াল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন। ফলে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। ঘটনাটি ঘিরে সুন্দরবন এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে।
গত ৬ এপ্রিল রাতে সুন্দরবনের কাচিকাটা এলাকায় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে মধু সংগ্রহে থাকা মৌয়ালদের একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটিতে মোট আটজন মৌয়াল ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই তারা পানিতে ভেসে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
উদ্ধারকৃত মৌয়ালরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া এলাকার সবুর খান, মনিরুল ইসলাম, আল মাহমুদ শেখ ও ইউনুচ আলী। পরে শুক্রবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ইকরামুল কবির নামের আরও এক মৌয়াল। তিনি একই উপজেলার গোদাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এখনো নিখোঁজ রয়েছেন গোদাড়া গ্রামের আমির মোল্লার ছেলে আকবর, ওহিদ মোল্লার ছেলে ওলিউর রহমান এবং আঃ রহমান গাজীর ছেলে মিকাইল হোসেন। তাদের সন্ধানে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মৌয়াল মনিরুল ইসলাম জানান, তারা গত ৬ এপ্রিল রাতে মধু সংগ্রহ শেষে কাচিকাটা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করেই তীব্র ঝড় শুরু হলে তাদের নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা আটজনের মধ্যে চারজন ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভাসতে ভাসতে সুন্দরবনের হুলদিবুনিয়া ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কাছে পৌঁছে যান। পরে বন বিভাগের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়ার পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, গত পহেলা এপ্রিল বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান। সোমবার রাতে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। চারজনকে উদ্ধার করে লোকালয়ে আনা হয়েছে এবং একজন বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সব এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ মৌসুমে হঠাৎ ঝড়ের কারণে এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। ফলে জেলে ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজ তিন মৌয়ালের সন্ধানে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।