কাতার এবং অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে— এমন দাবি করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, ইরানের একটি সূত্রের বরাতে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে বিষয়টি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস। ফলে ইরানের সম্পদ ছাড় নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
এর আগে ইরানের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে এবং বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানান। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানে চলমান বৈঠকে সম্ভাব্য একটি চুক্তির ইঙ্গিত।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক করার বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলমান আলোচনার আগে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে বিষয়টি দুই দেশের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ঠিক কোন ধরনের সম্পদ ছাড় দিতে রাজি হয়েছে, তা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্ট করেননি ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে দ্বিতীয় একটি ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা ইরানের তহবিলের মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফলে বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
অন্যদিকে ইরানের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা। তার এই অস্বীকৃতির পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ইস্যু। বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই এই ধরনের দাবি ও অস্বীকৃতি কূটনৈতিক জটিলতা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স ও আল–জাজিরা।