সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 127
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা চত্বরে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে চলছে রংতুলির আঁচড়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজকরা শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ইতোমধ্যে মুখোশসহ বিভিন্ন উপকরণ ও শোভাযাত্রার মোটিফ তৈরির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন বছরের আগমনে উপজেলা চত্বরে শিল্পীদের তুলি ও রঙে ফুটে উঠছে মঙ্গল শোভাযাত্রার নানা অনুষঙ্গ। এসব অনুষঙ্গ তৈরিতে স্থানীয় শিল্পীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতেও চলছে প্রস্তুতির শেষ পর্ব। সংস্কৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, সংস্কৃতির শক্তি ও প্রতিবাদী চেতনার মধ্য দিয়ে এবারও নতুন বছরের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা আরও বিস্তৃত হবে। আয়োজকদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আরও বর্ণাঢ্যভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে।
ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই বাঙালির অন্যতম সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই উৎসবকে ঘিরে অপেক্ষায় ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। সব ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসবে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মাখল, কাস্তে, মাছ ধরার জাল, পলই, খলই, রঙিন কুলা, হাতপাখা, কলস, ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণ। এসব উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে বৈচিত্র্যময় শোভাযাত্রার মোটিফ।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলায় থাকছে হস্ত ও কুটির শিল্প, চারু ও কারুশিল্প, পিঠা ও ফুড কর্নারসহ প্রায় ২০টি স্টল। পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষভিত্তিক নাটিকা, গম্ভীরা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
স্থানীয় আয়োজকরা জানান, এবার উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে উৎসবে অংশ নিতে পারেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তাড়াশ উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সুন্দর একটি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আকাশজমিন / আরআর