ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, তাঁকে পদচ্যুত করা দরকার: সিআইএর সাবেক পরিচালক


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার ক্রমবর্ধমান আহ্বানে এবার যুক্ত হয়েছেন। অযোগ্যতার কারণে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।

জন ব্রেনান, যিনি বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় সিআইএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। গত শনিবার এমএস নাউকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অযোগ্য প্রমাণ করছে।

বিশেষ করে ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের উসকানিমূলক মন্তব্যের সমালোচনা করেন ব্রেনান। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করে না, বরং বহু মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমি মনে করি, ২৫তম সংশোধনী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল।”

সাবেক এই সিআইএ প্রধানের মতে, ট্রাম্প এমন একজন নেতা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সর্বোচ্চ সামরিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে পরমাণু অস্ত্রভান্ডারসহ বিপুল সামরিক শক্তি রয়েছে, যা ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে সুস্থ বিচারবোধ, সংযম এবং কূটনৈতিক দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণে এসব গুণের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিরল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রেসিডেন্টের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেলে এই সংশোধনী প্রয়োগের আলোচনা সামনে আসে। ব্রেনানের বক্তব্য সেই আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের সমর্থকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন। তবে সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের মানসিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা যে কোনো দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর