সোহাগ মাতুব্বর, (ভাঙ্গা) ফরিদপুর:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গাগামী বাঙ্গী বোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে মাদারীপুরগামী শাহ ফরিদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে প্রায় ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪০) নামের একজন পিকআপের যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামের সেকেন মোল্লার ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এছাড়া বাসে থাকা অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এবং হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা অর্ধেকের বেশি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং অনেকেই গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, “গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারে।”
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মামুন জানান, ফরিদপুর থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শাহ ফরিদ পরিবহনের বাসটি বাবলাতলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি খাদে পড়ে যায় এবং পিকআপটি সড়কের ওপর ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়কের ওপর থাকা পিকআপটি সরিয়ে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় পিকআপের এক যাত্রী নিহত হন এবং উভয় যানবাহনের মোট ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।