পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ছিল একটি ‘প্রচারমূলক সামরিক অভিযান’, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি ও ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন নামের আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার দুটি প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানি বাহিনী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে জাহাজ দুটি লক্ষ্য করে এবং নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করে বলে দাবি করা হয়েছে।
একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি “সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাত্র কয়েক মিনিট দূরে” ছিল। ইরান নাকি জাহাজ দুটিকে ৩০ মিনিট সময় দেয় পথ পরিবর্তনের জন্য। এরপরই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ দুটি দ্রুত সরে যায় বলে দাবি করা হয়।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কৌশল ব্যবহার করে শনাক্ত হওয়া এড়ানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরানের রাডার ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা পুরো সময় জুড়েই জাহাজগুলোকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হরমুজ প্রণালি তাদের পূর্ণ নজরদারির আওতায় রয়েছে। এই অঞ্চলে গোপন অভিযান চালানোর যেকোনো প্রচেষ্টা ‘অকার্যকর ও উস্কানিমূলক’ বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে মার্কিন জাহাজগুলোর পিছু হটার একটি ভিডিও প্রকাশের কথাও উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, তারা ঘটনাটির সময় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছিল। তাদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী।
এদিকে ইরান আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে যখন ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে এমন সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর