হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই সমর্থন দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, ব্রিটেন কোনো পরিস্থিতিতেই এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হবে না।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, চাপের মুখে নতি স্বীকার করে যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, এবং এটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা এখন ব্রিটেনের প্রধান লক্ষ্য।
স্টারমার জানান, গত কয়েক দিন ধরে লন্ডন এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও একই অবস্থান বজায় রাখা হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই জার্মানি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা করেছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে।
চ্যান্সেলর মার্জের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর হ্রাস করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোর একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে চীনও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেইজিং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক বিবৃতিতে বলেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল, আল-আব্বাসিয়াহ এবং নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। তাদের দাবি, এসব অস্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা জরুরি।
জাপানও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, মাইন অপসারণ বা সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাপান বর্তমানে কূটনৈতিক সমাধান ও নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের ৪৫তম দিনে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গন আরও বিভক্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন অবরোধ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা