ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের হুমকি, জাহাজ চলাচলে নতুন সংকট


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৫৯ পিএম

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলসহ আরব সাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের ওপর কড়া নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নাবিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরোধকৃত এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে আটক, পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা অথবা জব্দ করা হতে পারে।

সেন্টকমের বার্তায় আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী—তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অর্থাৎ নির্ধারিত এলাকার ভেতরে প্রবেশকারী যেকোনো নৌযানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

তবে একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ব্যতীত অন্য দেশে যাতায়াতকারী নিরপেক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না। এ বক্তব্যে আঞ্চলিক নৌ-চলাচল ও বাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সব বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগমুহূর্তে সেন্টকমের এই সতর্কবার্তা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অবরোধমূলক ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বৈশ্বিক শিপিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি প্রকাশ না হলেও এর আগে দেশটি হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো সামরিক উপস্থিতিকে ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ফলে নতুন এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই অবরোধ বাস্তবায়ন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়বে। তেলের দাম, সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। তবে সেন্টকমের এই ঘোষণা স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর