মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত জলপথ অবরোধ করলে তা বিশ্ববাজারের জন্য গুরুতর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন–এর মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশনার অনেক দিক এখনও অস্পষ্ট, এবং এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই।
পেসকভ আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দর থেকে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করবে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সামরিক নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় থেকে ইরানের বন্দর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল প্রবেশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটে অস্থির বৈশ্বিক বাজারে এই পরিস্থিতি আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেলের সরবরাহ কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার এবং এলএসইজি–এর শিপিং ডেটা অনুযায়ী, অবরোধ কার্যকরের আগেই দুটি ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের আগে জাহাজ দুটি ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে নিরাপদ পথে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের দ্রুত জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে বাড়তি উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ অবরোধ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য জাহাজের চলাচলও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়ার এই সমালোচনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। তবে রাশিয়ার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই অবরোধকে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হচ্ছে।