ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

ইরান অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন অভিযান হবে: গবেষক


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:১৬ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘কঠিন অভিযান’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামি।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী আজ সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) মার্কিন বাহিনীর এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ ইসলামী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দর থেকে বা বন্দরের পথে যাওয়া জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করে, তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। তাঁর মতে, প্রশ্ন হলো—এই বিশাল জলপথে মার্কিন বাহিনী কি সত্যিই ট্যাঙ্কার ও সুপারট্যাঙ্কার চলাচল থামাতে সক্ষম হবে?

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ‘কঠিন অভিযান’ হিসেবে পরিণত হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন রুট।

মুহাম্মদ ইসলামি বলেন, ইরান বর্তমানে প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা চাইবে না যে দেশের খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হোক। ফলে কোনো অবরোধ পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে চাইবে, যাতে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখন এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।

এই গবেষকের মতে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল করে রাখা উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। এর ফলে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে সেখানে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ফেলবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন। কারণ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মুহাম্মদ ইসলামি বলেন, এই সংকট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর