ইরান উপকূলের কাছাকাছি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত শনিবার ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৪ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিবিসি ভেরিফাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এই রণতরির অবস্থানই এখন পর্যন্ত ইরানের সবচেয়ে কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, গত শনিবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ওমান উপসাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করছিল। এটি ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
বিবিসি আরও জানায়, ওই উপগ্রহচিত্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কাছাকাছি আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ দেখা গেছে। এগুলোর আকার ও গঠন মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে মিল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপে সাধারণত একাধিক ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার এবং সাবমেরিন থাকে, যা সম্মিলিতভাবে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা তৈরি করে। ফলে এই ধরনের উপস্থিতি কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং প্রয়োজন হলে দ্রুত আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতাও নির্দেশ করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা এবং নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের কাছাকাছি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সামরিক মোতায়েন মূলত শক্তির প্রদর্শন এবং কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ। একই সঙ্গে এটি সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও বহন করে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দুই পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি।