ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি আর বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের তেল বিক্রির স্বল্পমেয়াদী অনুমতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা ইরানি তেল বিক্রির জন্য যে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল সীমিত সময়ের জন্য। নির্ধারিত সময় শেষ হলে নতুন করে এই অনুমোদন বাড়ানো হবে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে বিশ্লেষকদের মত। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান বিক্রির সুযোগ ছিল কিছুটা স্বস্তির পথ। কিন্তু নতুন করে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াশিংটন তেহরানের তেল রপ্তানি খাতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় ইরানের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসগুলোকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল বিক্রির অনুমতি বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যেমন চাপে পড়বে, তেমনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও কিছুটা প্রভাব দেখা যেতে পারে। যদিও বিকল্প উপায়ে তেল বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে তেহরান, তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত পরিসরের হবে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান বারবার বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর