ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি আর বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের তেল বিক্রির স্বল্পমেয়াদী অনুমতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা ইরানি তেল বিক্রির জন্য যে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিল সীমিত সময়ের জন্য। নির্ধারিত সময় শেষ হলে নতুন করে এই অনুমোদন বাড়ানো হবে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে বিশ্লেষকদের মত। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের বাধার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান বিক্রির সুযোগ ছিল কিছুটা স্বস্তির পথ। কিন্তু নতুন করে সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়াশিংটন তেহরানের তেল রপ্তানি খাতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির আওতায় ইরানের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসগুলোকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল বিক্রির অনুমতি বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যেমন চাপে পড়বে, তেমনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও কিছুটা প্রভাব দেখা যেতে পারে। যদিও বিকল্প উপায়ে তেল বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে তেহরান, তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত পরিসরের হবে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান বারবার বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর