ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন পরবর্তী দফার সংলাপে বসতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল তাদের প্রথম প্রত্যক্ষ আলোচনা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর উপ-মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষ ‘সম্মত সময় ও স্থানে’ আবারও বৈঠকে বসবে। এই সংলাপকে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে এই আলোচনা ২০২৪ সালের চুক্তির সীমা অতিক্রম করে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈরিতা ও সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শত্রুতা অবসানের যেকোনো চুক্তি অবশ্যই দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত হতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকবে। অন্য কোনো পৃথক বা বিকল্প আলোচনার সুযোগ রাখা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার অগ্রগতির মাধ্যমে লেবাননের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন সহায়তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উভয় দেশের জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, তারা সকল অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। এই অবস্থানকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে লেবানন ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঘোষিত শত্রুতা অবসানের চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংলাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো অনেক জটিল ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা সমাধানে ধৈর্য ও কূটনৈতিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের এই সম্মতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন আশার সঞ্চার করছে।