ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন স্থগিত ইতালির


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৪৮ এএম

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মেলোনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন। তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই সমঝোতা স্মারকটি প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ২০০৩ সালে। সে সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সিলভিও বেরলুসকোনি। চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতার পথ সুগম হয়।

২০০৫ সালে ইতালির সংসদ এই চুক্তি অনুমোদন করে। এরপর থেকে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এনে নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক মোড় নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ইউরোপীয় দেশগুলোকে নতুন করে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে।

একই সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইতালি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছে—বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে মেলোনি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে, এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিষয়টি ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশও এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিও নজরে রাখা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসিটাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইতালির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর