ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আলোচনার মাঝেই লেবাননে ভয়াবহ হামলা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৫১ এএম

ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের একমাত্র সচল হাসপাতাল ‘তেবনিন’-এ হামলা চালানো হয়। এই হামলায় হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুধু হাসপাতাল নয়, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চলছে। এতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিনই নতুন করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে জনপদগুলো।

জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমান্ত ‘ব্লু লাইন’ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরালো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এতে করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনবসতি কার্যত বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

বর্তমানে লেবাননে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৬ লাখ দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা। তাদের বেশিরভাগই নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটে ভুগছেন।

এদিকে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সংলাপ চললেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যুদ্ধবিরতির কোনো কার্যকর অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও যদি একই সময়ে সামরিক অভিযান জোরদার হয়, তাহলে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়বে এবং সমাধানের পথ দীর্ঘায়িত হবে।

লেবাননের সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি—অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি। তবে আলোচনার টেবিল ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর