সুদানে চলমান সংঘাতে স্বাস্থ্যখাতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র লক্ষ্য করে ২১৭টি হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই হামলাগুলোতে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৮১০ জন চিকিৎসাকর্মী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, সুদানে চলমান সংঘাত এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যার মধ্যে ২১ মিলিয়ন মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন রয়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সুদানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। দেশটির প্রায় ৩৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এছাড়া দেশটিতে অপুষ্টি ও সংক্রামক রোগের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে, বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে সাম্প্রতিক একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে যুদ্ধের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, সুদানের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, পুরো সামাজিক কাঠামোকেই বিপর্যস্ত করে তুলছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহল সুদানে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদানে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।