গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় চারজন বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে আল-শাতি শরণার্থী শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। একই দিন গাজা সিটির আল-নাফাক স্ট্রিটে একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে চালানো গোলাবর্ষণে এক শিশুসহ আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
এছাড়া উত্তর গাজার বাইত লাহিয়া এলাকায় পৃথক আরেকটি বোমা হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। ফলে একদিনেই উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
চলমান এই হামলা ও সহিংসতার কারণে গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, শরণার্থী শিবির এবং জনবহুল এলাকাগুলোও হামলার বাইরে থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে গাজায় হামলা বন্ধ হয়নি। বরং বিভিন্ন সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আরও তীব্র হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত গাজাকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা।