ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

যুদ্ধবিরতি ছাড়া ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল ঐতিহাসিক বৈঠক


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:২৪ পিএম

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে সরাসরি বৈঠকে বসেছে লেবানন ও ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অনুসন্ধানমূলক’ বলা হলেও এতে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে আলোচনার শুরুতেই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার পথ খোঁজা। তার মতে, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে এই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর প্রভাব শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, লেবাননের সাধারণ জনগণের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাই এই প্রভাব কমানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য।

তবে বৈঠকের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে হিজবুল্লাহর অনুপস্থিতিকে। লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিনিধি এই আলোচনায় অংশ নেয়নি। ফলে লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

হিজবুল্লাহ ১৯৯৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রয়েছে। তবে বাস্তবে এটি লেবাননের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে এবং দেশটির অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েলি দখল ও প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যেই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।

মার্কো রুবিও আরও বলেন, এই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা উচিত। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ফোকাস এখন হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর গভীর প্রভাব থাকায় তাদের বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।

এই ‘অনুসন্ধানমূলক’ বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যই চরম রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিন দশক পর দুই দেশের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যদিও এখনই কোনো চুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তবুও দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারাকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। ভবিষ্যতে এই আলোচনা কোন দিকে অগ্রসর হয় এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর