যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন তিনি মনে করছেন না। বরং তাঁর ধারণা, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্প মনে করেন বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার দরকার নেই এবং খুব শিগগিরই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন আসতে পারে।
কার্লের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, “আমার মনে হয়, আগামী দুই দিন আপনারা দারুণ কিছু দেখতে যাচ্ছেন। আমি সত্যিই তেমনটা মনে করি।” এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সমাপ্তি দুইভাবে হতে পারে—একটি হলো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা, আর অন্যটি হলো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা। তিনি বলেন, “যেকোনো পথেই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। তবে আমি মনে করি সমঝোতায় পৌঁছানোই উত্তম, কারণ এতে তারা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে “একটি ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা” বিদ্যমান এবং যুক্তরাষ্ট্র এর মাধ্যমে “উগ্রপন্থীদের সরিয়ে দিয়েছে” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা শেষ, এখন আর আমাদের সঙ্গে নেই।”
বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প এক শক্তিশালী দাবি করেছেন বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিক জোনাথন কার্ল। ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট না থাকলে পৃথিবী আজ টুকরো টুকরো হয়ে যেত।”
এর আগে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে। আমরা সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।”
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারসহ দুই দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। তবে সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।