অস্ট্রেলিয়াগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নারী সহযাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৫২ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়া পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার স্কুট এয়ারলাইনসের সিঙ্গাপুর–পারথ রুটের একটি ফ্লাইটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ফ্লাইট চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি পাশে বসা এক নারী সহযাত্রীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে দ্রুত অন্য একটি আসনে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ফ্লাইটের কেবিন ক্রুরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পুরো যাত্রাপথে অভিযুক্ত যাত্রীর ওপর নজরদারি চালান। বিমানটি অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্মতিহীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং শ্লীলতাহানিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট পিটার ব্রিন্ডাল এক বিবৃতিতে বলেন, “ভ্রমণের সময় প্রতিটি যাত্রীর নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে যখন তারা উড়োজাহাজের ভেতরে ঘনিষ্ঠ পরিবেশে অবস্থান করেন।” তিনি আরও বলেন, বিমানে বা বিমানবন্দরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
তিনি যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “কারও সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনা ঘটলে তা এয়ারলাইনস কর্মী, পুলিশ বা বিমানবন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের জানাতে হবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্কুট এয়ারলাইনসের সিঙ্গাপুর থেকে পারথগামী ফ্লাইটে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় একটি গণমাধ্যম অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে ফ্লাইটে থাকা অন্যান্য যাত্রী ও কেবিন ক্রুদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, জনপরিবহনের মতো আকাশপথেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এমন ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা সতর্ক করেছে।
এদিকে শুক্রবার অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন আবেদন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিমানের মতো সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।