ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ইরান সংশ্লিষ্ট ৮টি তেলবাহী জাহাজ ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:৫২ পিএম

ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত আটটি তেলবাহী জাহাজকে গতিরোধ করে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ইরানের বন্দর থেকে বের হওয়া এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করা এসব জাহাজকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। চলমান হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করে। এর ফলে ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে আটক করা হয় এবং পরে তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সদস্যরা রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। এরপর তাদের স্পষ্টভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাহাজের ক্রুরা কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে মার্কিন নির্দেশ মেনে নেন।

আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই সবকটি তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাংকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ফিরে যায়। ফলে কোনো জাহাজে সরাসরি তল্লাশি চালানোর জন্য নৌবাহিনীর সদস্যদের বোর্ডিংয়ের প্রয়োজন হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ এই জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে তেল পরিবহনকারী বা ইরানগামী জাহাজগুলো সবচেয়ে বেশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে জোরপূর্বক তল্লাশি বা আটক অভিযান পরিচালনা করেনি। বরং রেডিও যোগাযোগ এবং সতর্কবার্তার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


এ সম্পর্কিত আরো খবর