ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার শাহবাজ শরিফ জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সৌদি আরবে পৌঁছে দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে যাবেন শাহবাজ শরিফ। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। কাতারের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তুরস্ক সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া তিনি পঞ্চম আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সফর শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে।
বর্তমানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত শনিবার পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেই আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবে উভয় পক্ষই পরবর্তী সংলাপের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ‘কিছু একটা ঘটতে পারে’। তার এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহবাজ শরিফের এই তিন দেশ সফর চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আগে এই সফর আঞ্চলিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই সফর সম্ভাব্য আলোচনার সময়সূচির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শাহবাজ শরিফ আগামী শনিবার ইসলামাবাদে ফিরবেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
আকাশজমিন / আরআর