ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার দেশ যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায়। তবে একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তা কখনোই সফল হবে না।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’র বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই পথেই এগোতে চায়। তবে এই আলোচনার পরিবেশ হতে হবে সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার নামে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে এবং কোনো বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে, চাপ প্রয়োগ করে কখনো স্থায়ী সমাধান অর্জন করা যায় না। বরং এতে সংঘাত আরও বৃদ্ধি পায় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হয়। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারী, শিশু এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার মতে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড শুধু মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও জটিল করে তোলে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একদিকে যেমন আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করছে যে তারা কোনো ধরনের চাপ মেনে নেবে না। এটি মূলত একটি কৌশলগত অবস্থান, যার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত থাকলে একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: ইরনা