আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জীবিত পিঁপড়া পাচারের চেষ্টার ঘটনায় এক চীনা নাগরিককে জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছে কেনিয়ার একটি আদালত। অভিযুক্তকে ১০ লাখ কেনিয়ান শিলিং জরিমানা এবং ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে রাজধানী নাইরোবির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ওই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজ তল্লাশি করে ২ হাজার ২০০টিরও বেশি জীবিত গার্ডেন পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়।
রায়ের সময় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পিঁপড়া পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কঠোর শাস্তি প্রয়োজন, যাতে এটি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। বিচারক আইরিন গিচোবি বলেন, এ ধরনের পাচার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এসব পিঁপড়া মূলত বিদেশি বাজারে, বিশেষ করে সংগ্রাহকদের কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। ওই বাজারে ‘ফর্মিকারিয়াম’ নামে পরিচিত স্বচ্ছ পাত্রে পিঁপড়ার কলোনি তৈরি করে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এর জন্য উচ্চমূল্য প্রদান করা হয়।
প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ঝাং কেকুন জীবিত বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
এই মামলায় আরও এক কেনিয়ান নাগরিক চার্লস মওয়াঙ্গির নাম উঠে এসেছে, যিনি পিঁপড়াগুলো সরবরাহ করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার মামলার পরবর্তী শুনানি এখনও নির্ধারিত হয়নি।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বড় পরিমাণে গার্ডেন পিঁপড়া সংগ্রহ ও পাচারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক।
এর আগেও গত বছর একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছিল। তখন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে, প্রচলিত হাতির দাঁত বা বড় প্রাণীর পরিবর্তে এখন পাচারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ছোট প্রাণীর দিকে ঝুঁকছে।
সব মিলিয়ে, পিঁপড়া পাচারের মতো অস্বাভাবিক অপরাধে এই রায়কে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন পরিবেশবিদরা।