আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব জেনারেল স্টাফ আইয়াল জামির। গতকাল বুধবার আইডিএফের মুখপাত্র এফি ডেফরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইডিএফ মুখপাত্র জানান, সেনাপ্রধান লিতানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের পুরো এলাকাকে হিজবুল্লাহর জন্য ‘কিলিং এরিয়া’ (মৃত্যুপুরী) হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ডেফরিন দাবি করেন, লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি সদস্যকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহ যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে স্থল ও বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ইরান ইস্যুতেও ইসরায়েল তাদের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করছে বলে জানানো হয়েছে। আইডিএফ কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হিজবুল্লাহ ও ইরান উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ‘কিলিং এরিয়া’ ঘোষণা এবং বড় পরিসরে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইডিএফ মুখপাত্র এফি ডেফরিন আরও বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল করতে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে অভিযান চলমান থাকবে। যেখানেই তারা অবস্থান করুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং বেসামরিক মানুষের উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি